আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনে রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স লক করেছেন এবং তা গ্রহণের জন্য কক্ষ নির্ধারণ করেছেন।
রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ব্যালট বাক্স লক করার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওসিভি ও আইসিপিভি-ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে এবার। পোস্টাল ব্যালটে যারা ভোট দেবেন- তাদের ব্যালট পেপার রাখার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এ ভোটকক্ষে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য ২৪টি ব্যালট বাক্স রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি; তাদের উপস্থিতিতে বাক্স বন্ধ করাসসহসার্বিক কার্যক্রম করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সবশেষ ডাক বিভাগের ডাক আসবে; নিয়ম অনুযায়ী বারকোড মেশিন দিয়ে, কিইউআর কোড স্ক্যান করে যথাযথভাবে ল্যাপটপে ডিজিটালি সেভ করা হবে এবং ব্যালটের খামটি বাক্সে রাখা হবে।’
তিনি জানান, কোনো ব্যালট বাক্স, লক নম্বরসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তায় থাকবে। সাড়ে চার টার মধ্যে যেসব ব্যালট আসবে তা বাক্সে রাখা হবে; এরপর এলে তা বাক্সে রাখা হবে না; আলাদাভাবে থাকবে।
এ দুটি আসনের পোস্টাল ব্যালটের দায়িত্বে থাকা ঢাকার অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ডাক বিভাগ থেকে যেসব পোস্টাল ব্যালট আসবে, তা স্ক্যান করে, চেক করে রেজিস্ট্রি এন্ট্রির করে বাক্সে রাখা হবে। ভোটগণনার সময় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে সব কিছু মিলিয়ে নেবেন; তারপর গণনা করা হবে।’
এবার ৩০০ আসনে প্রবাসে ও দেশে ১৫ লাখেরও বেশি পোস্টাল ভোটিংয়ে নিবন্ধন করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকালে সাড়ে চার টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাদের ব্যালট পেপার পৌঁছবে তাদের ব্যালট গণনা করা হবে। ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধিত রয়েছে ৫৬১৭ জন, আর ঢাকা-১৫ আসনে ৭৪০৫ জন। প্রবাসের পোস্টাল ব্যালট পেপারে (ওসিভি) দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সব প্রতীক (নৌকা বাদ বাদ দিয়ে ১১৮ ও না ভোটযুক্ত) থাকবে। আর দেশের পোস্টাল ব্যালট পেপারে আসনভিত্তিক প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে।
সংসদ নির্বাচনে দলগুলো ১৭৩২ জন প্রার্থী আর স্বতন্ত্র ২৪৯ জন মিলে এবার মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকল ১৯৮১ জন। এর মধ্যে ধানের শীষ ২৮৮ জন, দাঁড়িপাল্লা ২২৪ আর হাতপাখার ২৫৩ প্রার্থী রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারেও নেমেছেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চলবে। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।