এবার নির্বাচনের আগে ব্যাংক খাতে সংস্কার: গভর্নর-উপদেষ্টার ভিন্নমত

এবার নির্বাচনের আগে ব্যাংক খাতে সংস্কার: গভর্নর-উপদেষ্টার ভিন্নমত

নিজস্ব প্রতিবেদক : January 26, 2026

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ব্যাংকিং খাতের সংস্কার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই বিশেষ তাগিদ দেন। তবে নির্বাচনের হাতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় থাকায় এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আইন দুটির সংশোধন সম্ভব কি না, তা নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা নিজের সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও দেশের সামগ্রিক শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য ব্যাংকিং খাতের এই আইনি সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকে গভর্নর যুক্তি দেন যে, নির্বাচনের পর এই আইনগুলো সংশোধন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়তে পারে, তাই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এটি সেরে ফেলা উচিত। গভর্নরের এই প্রস্তাবের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চেষ্টা করব। তবে সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তাই ঠিক কতটুকু সম্পন্ন করা যাবে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।”

গোলটেবিল বৈঠকটি ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক যৌথভাবে আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা প্রধান অতিথি এবং গভর্নর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ এবং ব্যবসায়ী নেতারাও এই আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা গভর্নরের প্রস্তাবিত সংস্কার উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই দেশের অর্থনীতি নানা ঝুঁকির মুখে থাকায় ব্যাংকিং খাতকে সবচেয়ে নাজুক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোতে সুশাসন ফেরাতে এবং ক্যাশ প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আইনি কাঠামোর পরিবর্তনকে অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী নেতারাও ব্যাংকিং খাতের আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেন।

অর্থ উপদেষ্টা সময়ের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বর্তমান সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন। ব্যাংকিং খাতের এই সংস্কার কার্যক্রম সফল হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের আর্থিক খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

Share This